Home / Articles / ইমিগ্রান্ট কড়চা(জীবন যেখানে যেমন), আসমা খান Immigrant Diary (Life as Moves), Asma Khan

ইমিগ্রান্ট কড়চা(জীবন যেখানে যেমন), আসমা খান Immigrant Diary (Life as Moves), Asma Khan

ইমিগ্রান্ট কড়চা(জীবন যেখানে যেমন), আসমা খান Immigrant Diary (Life as Moves), Asma Khan

একটি শহরে সাধারন নাগরিকের মধ্যে যখন কোন গোষ্ঠি্র দিকে সন্ত্রাস ও সন্দেহের তর্জনি তোলা হয়, তখন আমজনতা ভয়ের কয়েদী হয়ে যায়, মানুষ তখন একে অপরের, নিজেই নিজের প্রতিপক্ষ হয়ে যায়। ধ্বংশের সর্বনাশা চেহারা দেখা যায়। কিন্ত যদি মৈত্রীর কথা, আশার কথা শোনায়, পরস্পরে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায়, তখন মানুষের মন ভবিষ্যৎ মুখি, সৃজনশীল হয়। নুতন নুতন কত কিছু গড়ে। সকলের শৃংখলাবদ্ধ সন্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি দেশ উন্নতির বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে পৃথিবীর ইতিহাসে নাম লেখায়।

আমাদের চোখের সামনেই ধাঁই ধাঁই করে অতি আধুনিক বারহেভেন টাউনশিপ গড়ে উঠলো অটোয়ায়। একেবারে গোড়ায় আমাদের ছোট্ট কমিউনিটির কেউ দাওয়াত দিয়ে কোন দেশি লোক্ ঘটা করে হালাল খাবারের ব্যাবস্থা করতেন, যা খুব সুলভ ছিল না তখন। সেই প্রথম বছরে বড় নিঃসঙ্গ, একাকিত্বে কেটেছে। বাংলায় কথা বলার জন্য দেশী লোকজনের জন্য মন বড় পোড়াতো। দেশে যেমন পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ, এখানে তেমন চার্চ। ঈদের নামাজ কমিউনিটি হল ভাড়া করে হোত। ডাউন টাউনে অটোয়া মসজিদ ছিল। ইস্ট-এন্ডে একটা সিঙ্গেল হোমে বেলাল মসজিদ, ওয়েস্ট এন্ডে পুরোন এক চার্চে ছিল জামে উমর মসজিদ। একেক মসজিদ একেক দিন ঈদের ঘোষণা দিতেন তখন, আর হায়, হায়, চেনাজানা ছোট এ মুসলমান সমাজে উৎসব ভাগ হতো আরো ছোট ছোট দলে উপদলে।

অপ্রিয় হোলেও যেটা সত্য ৯/১১ এর পর আমাদের ধর্মীয় পরিচয় আরো সুস্পষ্ট হয়েছে। অন্যান্য ধর্ম যেমন খ্রীস্টান, ইহুদি, বৌদ্ধ, হিন্দু বা অন্যান্য ধর্মের মত মুসলমানেরা নিজেদের ধর্মীয় রিচুয়াল পালনে সহজ হয়েছে, বা কানাডিয়ানদের  সাধারন ধারনা স্পষ্ট হয়েছে।  সাদৃস্যটা, মিলটা নযরে পরেছে। ইহুদিরা যেমন ‘কোশার’ মাংশ খান। মুসলমানেরা তেমন হালাল খান, এখন আন্তর্জাতিক ভাবেই, ভ্রমনের খাবার মেনুতেও যেটা মিলছে।  মুসলমানারা অন্যদের মতই নিরিহ, শান্তিপ্রিয় সাধারন মানুষ, সেটা কানাডিয়ানরা জানে।

ইমিগ্রান্ট হিসেবে এদেশে আমাদের আদ্যোপান্ত জন্ম বা কর্ম বৃত্তান্ত সরকারের জানা। কোন লুকোছাপা নেই। আমাদের অবসরের সামাজিক, ধর্মীয়, ভাষিক পরিচয়ে কেন অস্পষ্টতা, রহস্যময়তা থাকবে? সেটার  নিবন্ধন করে প্রতিষ্ঠানিক রুপ দিলেই সাধারন ভাবে আমাদের পুর্নাংগ পরিচয় নথিবদ্ধ, সুস্পষ্ট হয়। যেখানে অস্পস্টতা, রহস্যময়তা, সেখানে প্রশ্ন, সন্দেহ। এদেশে সকলের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে। যে কোন নিবন্ধনভুক্ত প্রতিষ্ঠানেরই জবাবদিহিতা থাকে, সরকারের কাছে এবং জনগনের কাছে। এক বাক্য নিজেদের অস্তিত্বের জন্য সঠিক উদার মনের পরিচয় দেয়া। মানুষ আজন্ম তার জন্মভুমিকে স্মরণ করে, কিন্ত মনকে অতীতমুখি না করে ভবিষ্যৎ মুখি করার উপায় ইমিগ্রান্ট হিসেবে কানাডাতে আমাদের জন্ম ভুমি বাংলাদেশকে পরিচয় করার সুযোগ সৃস্টি করা, প্রতিষ্ঠান খোলা, যোগাযোগের সেতু গড়া।

এমন একটি প্রতিষ্ঠান CBET কানাডিয়ান রেজিস্টার্ড চ্যারিটি। এটা বাংলাদেশে এবং অটোয়ার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে বৃত্তি দিচ্ছে গত চার বছর ধরে। রেজিস্টার্ড চ্যারিটিতে যে কেউ অর্থ দান করলে ট্যাক্স রিসিট দিতে পারে, এবং সে ব্যাক্তি বছর শেষে ট্যাক্স রিটার্নে দানে্র ৩০% ফেরত পেয়ে যান। CBET চ্যারিটি পাবার পর থেকে প্রতি মাসে Canadian Dream প্রকাশ করছে, (দোভাষী) ইংরেজি এবং বাংলায় নিরলশ লিখে চলেছেন এ শহরের এ সময়ের আখ্যান। প্রায় দুবছর Rogars TV এর Bangladesh Window তে অটোয়ার বাঙ্গালী সমাজচিত্র নিয়মিত টেলিকাস্ট হচ্ছে। নদীর উৎস থেকে সাগর সঙ্গম পর্যন্ত যাত্রাপথ দেখায় নাকি মাহাত্ব্য আছে,  ঠিক তেমনই ইমিগ্রান্ট জীবনচিত্রটা কিভাবে বৈশ্বিক ক্যানভাসে জন্মভুমি পার হয়ে কানাডাতে জীবন গড়লেন সেটা একটা বিস্ময় তাই না?

গত কয়েক বছরে বারহেভেনের খোল-নোলচে বদলে গেছে আমূলে। বাড়িঘর, দোকানপাট, লোকজন বেড়েছে বহু বহু গুন। ফলে এবারের ইলেকশনে নুতন রাইডিং হিসেবে বারহেভেন আত্বপ্রকাশ করেছে। সরকার প্রতিনিধি পরম মমতায় জনগণের পাশে এসে দাড়িয়েছেন সমস্ত সামাজিক কর্মকান্ডে। সন্ত্রাস ও ক্ষয়িষ্ণু বৈশ্বিক অপপ্রচারের বিপরীতে কানাডা তার হৃদয় মুক্ত করে মৈত্রি দ্বার খুলেছে ইমিগ্রান্টদের জন্য, এবং ইমিগ্রান্টরাও উদ্যেগি ভূমিকা নিয়েছে যেটা অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখে। বারহেভেনের জকভেল হেরিটেজ বিল্ডিং এ মাত্র সতেরজন মুসলমান রমজান মাসে তারাবী শুরু করেছিলেন তারাই শুরু থেকে সকলের সাথে গড়েছেন SNMC Center and Masjid এখন রমজানের প্রতি জুম্মায় ও তারাবীতে প্রায় হাজার বারো ‘শ লোক হয়। আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক কেন্দ্র। শুরু থেকেই এখানে কত কি যে হয়!! নামাজ, কোরান ও হাদিশের চর্চার সাথে সাথে বিয়ে শাদী, জন্মদিন, যে কোন সামাজিক অনুষ্ঠান, ইলেকশনের আগে ক্যান্ডিডেটদের রাজনৈতিক বিতর্ক, ফ্রেঞ্চ শেখার ক্লাস, ছেলে মেয়েদের তাবৎ খেলাধুলা, কানাডা বা বিশ্বের যে কোন দুর্যোগে ত্রান সংগ্রহ, হাস্পাতালের জন্য, ফুডব্যাংকের গরীবের জন্য তহবিল, খাদ্য সংগ্রহ ও তা বন্টন করা, স্কুলে কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি দেয়া, কোরবানির মাংস বিলি বন্টন করা হচ্ছে সেচ্ছা শ্রমে। ঈদের বাজার এবং উৎসবে সমাজ উপচে পড়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে।

কেন হয়েছে? সন্ত্রাস আর ভঙ্গুর বৈশ্বিক ক্যনভাসে জন্মভুমি স্বদেশ বা স্বধর্ম যখন অযথা প্রশ্নবিদ্ধ, তখন মনের কোনে সুপ্ত ইচ্ছে, প্রত্যাশা জেগে ওঠে, স্বপ্ন পুরনের মত ইমিগ্রান্ট তার ভবিষ্যত প্রযন্মের জন্য উদ্যগি হয়েছেন নিজদের শিকড়কে জানা ও জানানোর জন্য ঐতিহ্যকে সংস্কৃতিকে এই বাসভুমিতে সময়ের উপযোগী করে প্রকাশ করার জন্য। নিজস্ব উৎসবে অন্তরের টান থাকে, কৌতূহল থাকে, যদি অনুমোদিত প্লাটফর্ম থাকে তবে মানুষ স্বেচ্ছায় ফিরে ফিরে আসে ঐতিহ্যর কাছে। ‘রমজান’ এবং ‘ঈদ’ এমন এক ঐতিহ্য তাদের শিকড়মুখী করে। সদলে ঈদ বাজারে যায়, ঈদ ফেস্টিভ্যালে যায়, পরবের খানাপিনা খায়।

বেশ আগে কাউন্সিলর Jan Harder যখন বারহেভেনে জাঁকজমকের Canada Day  উদযাপন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তখন থেকে আজতক SNMC এই Celebration এর Gold Sponsor!! দেড়শ বছরের স্বাধীনতা উপলক্ষে এবছর SNMC নিজস্ব ঈদ ফেস্টিভ্যাল ক্যান্সেল করে  Clarke Fields এ যোগ দিচ্ছে।

Happy Canada Day!!

About admin

Check Also

give1-300x76

ইমিগ্রান্ট কড়চা (CBET), আসমা খান Immigrant Diary (CBET), Asma Khan

ইমিগ্রান্ট কড়চা (CBET), আসমা খান Immigrant Diary (CBET), Asma Khan স্কুলে আমাদের পন্ডিত স্যার বাংলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *