Home / Articles / Immigrant Diary ( 3rd Part, Education); ইমিগ্রান্ট কড়চা (তৃতীয় পর্ব , শিক্ষা), আসমা খান

Immigrant Diary ( 3rd Part, Education); ইমিগ্রান্ট কড়চা (তৃতীয় পর্ব , শিক্ষা), আসমা খান

 Immigrant Diary ( 3rd Part, Education); ইমিগ্রান্ট কড়চা (তৃতীয় পর্ব , শিক্ষা), আসমা খান

জীবনটা হচ্ছে রিলে রেসের মত। বাবা মায়ের কাছ থেকে ছেলে মেয়ে, সেই ছেলে মেয়ের কাছ থেকে তাঁদের সন্তানে নিবিড় একটা ধারাবাহিকতা থাকেই, শুধু স্থান-কাল-পাত্রের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক ইন্টারপ্রিটেশন ভিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। সব দেশেই টিন এজ ছেলে পিলে পালা পোষা বড্ড ঝামেলার কাজ; তাই এক ছেলে, তিন টিন এজ মেয়েকে নিয়ে প্রথম যখন অটোয়াতে আসি, তখন আমার চিন্তায় ছিল তাদের লেখা পড়া অর্থাৎ স্কুল। এ যুগে স্কুল মানে হচ্ছে রুজি-রোজগারের জন্য skill শেখা, বুদ্ধিকে শানিত করা, কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সাথে সমস্যায় সমাধান করতে শেখা। পশ্চিমের শিক্ষার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হচ্ছে মুক্ত চিন্তা, যুক্তি নির্ভর, সৃজনশীল কোন আইডিয়াকে এরা স্বাগত জানায়, শিক্ষার্থির মেধাকে পুরস্কৃত করে, সেখানে তার ধর্ম,বর্ণ, জাতীয়তা বিবেচ্য নয়। ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে বিকশিত করতে পরিবেশ সৃষ্টি করে। পাঠ্য বই থেকে লব্ধ জ্ঞান আত্বস্থ করে যাপিত জীবনে তার প্রয়োগ করতে, মনকে অনুসন্ধিৎসু করতে শিক্ষক অগ্রনী ভুমিকা রাখেন। পূবের সাথে পশ্চিমের ক্লাস রুমে মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে একটাতে ভয় দেখিয়ে বাধ্যতা, গতানুগতিকতা শেখায়, অন্যটায় অনুপ্রেরনায় সৃজনশীলতা শেখায়।

ভাগ্যিস ছেলে মেয়েরা  আয়েসি পরিচিত জীবন ফেলে  এদেশে অনিচ্ছেয় এলেও খুব একটা ঝামেলা করেনি। বৃটিশ প্রাইভেট স্কুলে তাদের প্রাক্তন স্কুল জীবন আর অটোয়ার স্কুলজীবনে খুব হেরফের হয়নি, বরং শিক্ষার প্রায়োগিক দিক তাদের মুগ্ধ করেছে। স্বেচ্ছাশ্রম, কো-অপ করে অভিজ্ঞতা/অর্থ উপার্জনের সুযোগ তাদের কাছে মনে হয়েছে প্রচলিত ধারনা পেশাগত চাকরীর সেই সোনার হরিণ পাওয়ার দুর্লভ চাবিটা যেন একান্তই ধরা ছোয়ার মধ্যেই। শিক্ষা জীবনে/ স্বেচ্ছাশ্রমে/ কো-অপে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে, তাদের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ কত পুরস্কার বিতরনীতে গিয়ে দেখেছে সারা হল ভরা ককেশীয় ছেলে মেয়ে, সেই হয়তো একমাত্র বাদামী মুসলমান মেয়ে ।

কিন্তু স্কুল শুধু লেখাপড়া নয় সামাজিকতাও শেখায়, এখানেই বন্ধু বান্ধবের সাথে সমাজের আলো, আঁধার, আদব কায়দা, রীতি লেহাজ রপ্ত করে তারা। হাইস্কুলে তাদের বয়সটাই এমন যে তখন শরীর জাগে, মন জাগে। পুবের সাথে পশ্চিমের শরীর, নৈতিকতা, লজ্জা,পবিত্রতা, ছেলে মেয়েদের মেলামেশা,  ধর্ম তো বটেই, সামাজিকভাবেই বিস্তর ফারাক আছে। পূবের সমাজে ছেলে মেয়েদের মেলামেশায়  আরোপিত শর্ত থাকে। আর ডেটিং এখানে স্বাভাবিক সামাজিক আচরন। পশ্চিমের টিন এজারদের এই শর্তহীন ডিস্পোজাবল সম্পর্ক পূবের পিতামাতার ঘুম হারাম করার জন্য যথেষ্ট। কারন এদেশে মেয়েকে দেশের মত ‘পিটায়ে হাড্ডি গুঁড়া করে’ দেবার ভয় দেখিয়ে জোর করে কবুল বলানো দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু সচেতন মায়েরা চাইলে সুন্দর করে সন্তানকে বোঝাতে পারেন ছেলেমেয়েদের এই  মেলামেশার দীর্ঘস্থায়ী অশুভ পরিনতি, দায়িত্ব, কর্তব্য। সস্নেহে বুঝিয়ে দেবার পর তাদের উপর বিশ্বাস রেখেছি। তাদের বার বার আস্বস্ত করেছি কক্ষনো তাদের অমতে বিয়ে দেবার প্রশ্নও উঠবে না। উপযুক্ত সময়ে নৈতিকতা মেনে নর নারীর সম্পর্কতো জীবনেরই সুন্দরতম উপহার, সেটাও বলেছি।

ভিন্ন বিদেশ আপন স্বদেশ হবার সেই শুরুর সময়ের কষ্ট মনে রাখতে  নেই। অটোয়াতে এসে প্রথম মাসেই সিস্টেম ইঞ্জিনীয়ার হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়ে মনে স্বস্তি পেলেও আমার স্বামী প্রথম Pay cheque হাতে পেয়ে ট্যাক্সের পর নগদ প্রাপ্তি দেখে তাঁর এক্কেবারে আক্কেল গুড়ুম! দীর্ঘ দিনের ট্যাক্স ফ্রি বেতন,আর মুফতে বাসা, এয়ার টিকেট পাওয়া অজস্র সুবিধায় অভ্যস্ত চোখে শর্ষে ফুলের মত শুধু  ট্যাক্স দেখেন; সর্বত্র ট্যাক্স –  গ্রসারি করতে ট্যাক্স, গাদা গাদা বিল, পেট্রলের দাম। কর্পোরেট অফিসের অসম্ভব প্রেসার, নির্বান্ধব, অনাত্বীয় অপরিচয়ের এই দেশে তিনি প্রতিদিন ফিরে যেতে চেয়েছেন। কিন্ত সঙ্গে আনা সঞ্চয়ের নগদ টাকায় নুতন গাড়ি, নুতন বাড়ি কিনে আটকে গেছেন। তীব্র শীতে অফিস থেকে এক হাঁটু বরফ ঠেলে ঘরে ফিরতে একেবারে জেরবার দশা, শীতের খাবার টেবিলে তখন খুব বেশি বৈচিত্র আনা সম্ভব ছিল না। এত সব বৈরীতায় মন যখন একেবারে জুবুথুবু, অনুভবে শুধুই অসহায় কষ্ট ঝরে, বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে কেমন করে যেন একটি কমিউনিটি বিল্ডিং Weekend এ ভাড়া করে পটলাক পার্টিতে পূবের মানুষের সুখ দুখের সাথে নিজেরটা মিলিয়ে খন্ডিত স্বত্তার একটা পুর্নাঙ্গ জোটবদ্ধ স্বপ্ন দেখলেন। স্বেচ্ছাশ্রমে বিভিন্ন সমাজ কল্যান কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখলেন।

পুরো একটি সংসারের মূলোৎপাটন করে অদম্য সাহসে অটোয়াতে ফের  যখন সংসার পাতলাম, তখন সব দায় এসে পড়েছিলো আমার কাঁধে। মুখে কুলুপ এঁটে সব্বার ঝাড়ি শুনি, কিন্ত নযর রাখি সবার জীবনের চাকা ঠিকঠাক লাইনে আছে কিনা। ঘুম থেকে উঠে প্রথমে সারা দিনের কাজের লিস্টি করি, তারপর শুরু হয় আমার দৌড়ের জীবন। তেইশে জানুয়ারী ছিয়ানব্বই সালে অটোয়ার রিভারসাইডে দশ তালার এক এপার্টমেন্টে যে স্বপ্ন সহ এসেছিলাম , আঠারো বছরের ম্যারাথনের পর সেটা বলি,  আজ আমার বড়মেয়ে Software  Designer, CEO ‘Radient Design Studio’, Ottawa. মেজ মেয়ে Product Manager, ‘Financial Time’, New York. ছোট মেয়ে Consultant, ‘Deloitte’ Ottawa. পুত্র Financial Analyst, Ministry of Justice, Ottawa. ‘Nortel’, ‘Ericsson’ Ottawa তে দীর্ঘ কর্মময়  জীবনের পর অবসর জীবনে আমার স্বামী সবান্ধব স্বেচ্ছাশ্রমে শুরু করেছেন SNMC  এবং  CBET , দুটি  charity organization এ।   স্বপ্ন ছিল সমাজের জ্ন্য, দেশের জন্য মঙ্গলজনক কিছু করা।

ক্রমশ… …

About admin

Check Also

give1-300x76

ইমিগ্রান্ট কড়চা (CBET), আসমা খান Immigrant Diary (CBET), Asma Khan

ইমিগ্রান্ট কড়চা (CBET), আসমা খান Immigrant Diary (CBET), Asma Khan স্কুলে আমাদের পন্ডিত স্যার বাংলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *