Home / Articles / Immigrant Diary ( 4th part) Asma Khan, ইমিগ্রান্ট কড়চা(চতুর্থ পর্ব) আসমা খান

Immigrant Diary ( 4th part) Asma Khan, ইমিগ্রান্ট কড়চা(চতুর্থ পর্ব) আসমা খান

 Immigrant Diary ( 4th part) Asma Khan, ইমিগ্রান্ট কড়চা(চতুর্থ পর্ব)

আসমা খান
একবিংশ শতাব্দিতে এসে বিশ্ব হয়েছে মিডিয়া নির্ভর, মিডিয়াই এখন বিশ্বকে ব্যাক্তি, গোত্র, দেশ বা জাতী সম্পর্কে জানানো আর ভাবানোর দায়িত্বটা নিয়ে নিয়েছে আর ‘নাইন ইলেভেনে’ গুটিকয় হাইজ্যাকারের  হটকারিতায় পুরো মুসলমান সমাজই পশ্চিমে জিম্মি হয়ে পড়েছে, তাদের ইমেজে মিডিয়া ‘সন্ত্রাসির’ ছাপ মেরে চলেছে ক্রমাগত। মুসলমান সমাজ প্রথমে দিশেহারা হলেও সচেতন হয়েছে নিজেদের আইডেন্টিটি সম্পর্কে।
পশ্চিমের প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক সমাজ জীবন যাপন সহজ করেছে আর এতে ধর্মের দৃশ্যমান প্রভাব খুব কম, আর পুবে ধর্ম হচ্ছে সামাজিক আচরনের সীমানা। সব ধর্মেই সামাজিক উৎসবে, পাল-পার্বনে খানা পিনায় জীবনে মরণে শোকে দুঃখে উপাসনালয় কেন্দ্রিক একটা বাছ-বিচার থাকেই। তাই প্রত্যেক ইমিগ্রান্ট সমাজ শহরের Institutional zone এ সরকারী বিধি নিষেধ মেনে তাদের উপাসনালয় তৈরী করে সমাজের সকলের সমবেত চেষ্টায়। আর এ সমস্ত উপাসনালয়ের জবাবদিহিতা রয়েছে কানাডিয়ান সরকারের কাছে, ধর্মীয়, সামাজিক, বা অর্থনৈতিক অর্থাৎ Donation  বা Expense নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করে Canadian Revinue Agency. অনিয়ম পেলেই Charilty stutas ক্যান্সেল করে দেয় কঠোর হাতে। প্রাজ্ঞ ধর্মগুরু শুধু ধর্মীয় জ্ঞানে নয়, বরং পশ্চিমের সামাজিকতা, রীতি নীতি সম্পর্কে ইতিবাচক জ্ঞানে সমৃদ্ধ । তিনিই চেষ্টা করেন মানব মনের গহীনের সংশয়, জিজ্ঞাসা, এবং অসহায়ত্বে ইতিবাচক সান্তনা দিতে।
সাতানব্বই সালে যখন অটোয়ার দক্ষিন পশ্চিমে বাড়ী কিনে এলাম আমার স্বামীর মনের একান্ত হাহাকার ছিল সামাজিক মিলনায়তন, বা উপাসনালয়ের জন্য। স্থানীয় একটি কমিউনিটি বিল্ডিং ভাড়া করে কয়েক পরিবারে পটলাকের মাধ্যমে সপ্তাহ্ অন্তে নিয়মিত মিলিত হতাম। জোটবদ্ধ সমাজ ভাবনা, ধর্মীয় বিশ্বাস চেতনা আমাদের খন্ডিত স্বত্বায় এক স্বপ্নের মত লালন করতাম। যাদের সাথে পরিচয়, মাত্র কয়েকজনকে নিয়ে প্রতিদিন মাগরিব ও শুক্রবারে জুম্মা, রমজান মাসে তারাবিহ নামাজ দিয়ে  SNMC Centre & Masjid ধারনার শুরু। সেই ছোট্ট কমিউনিটির সকলের অকুন্ঠ, সমবেত সহযোগিতায় আজ সেটা মহীরুহের আকার নিয়েছে। আজতক সেই ৩১৩১ জকভেল রোডের ছোট ঐ কমিনিটি বিল্ডিংটিই SNMC এর ঠিকানা। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ,  প্রতি সপ্তাহে জুম্মায় প্রায় চার পাঁচ শত লোক, রমজানের তারাবীতে প্রতিদিন প্রায় সাত শত, ঈদের নামাজে প্রায় দুই আড়াই হাজার মানুষ নামাজ শেষে উৎসব মুখর মিলন মেলায় শুভেচ্ছা বিনিময় করছে। ঈদ উল আযহায় নামায ও কোরবানীর ব্যবস্থা করা, এবং এক তৃতিয়াংশ গরীবের ভাগের কয়েক শ’ কেজি টাটকা মাংস স্থানীয়  ফুডব্যাংক সানন্দে সংগ্রহ করে গরীব ক্যানাডিয়ানদের মাঝে বিতরন করে।
এখন প্রতি সপ্তাহে SNMC সামাজিক সেবাদানে শিশু, কিশোর, তরুনদের জন্য সমাজমুখী বিভিন্ন প্রোগ্রাম, বৃদ্ধদের জন্য প্রতিমাসে ফ্রি ডিনার, ফার্মাসিস্ট, ডাক্তার, সাইকোলজিস্টদের দিয়ে তাঁদের যাপিত জীবনের ক্লেশ লাঘবের চেষ্টার পরামর্শের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পারিবারিক জীবনের কলহে, ভাঙ্গনে বা বিয়েতে পুব ও পশ্চিমের মিলিত অর্থাৎ ধর্মীয় এবং কানাডিয়ান আইনের সুষ্ঠ প্রয়োগের ব্যবস্থা করেন বিজ্ঞ ইমাম।
SNMC  থেকে বারহেভেনের চার পাঁচটি কানাডিয়ান পাবলিক হাইস্কুলে, কলেজে ও দুটি ভার্সিটিতে দুটি করে মোট পনের বিশটার মত স্কলারশীপ দেয়া হচ্ছে প্রতি বছর। স্থানীয় একটি পাবলিক স্কুল শনিবারে ক্লাস রুম ভাড়া করে ইমিগ্রান্ট বাচ্চাদের মাতৃ ভাষা ও ধর্মীয় সংস্কৃতি শিক্ষা দেয়া হচ্ছে প্রায় শ’দুয়েক ছেলেপিলেদের।  শহরের গরীব দুঃখিদের সাহায্য করা, বিশ্বের বিভিন্ন দুর্যোগে  কয়েক লক্ষ ডলার সাহায্য পাঠানো হচ্ছে প্রতি বছর। সহৃদয় মানুষের দানকৃত অর্থ আর স্বেচ্ছা শ্রমে মানুষ এগিয়ে আসে এ সমস্ত মানবিক কাজে।
আমার স্বামী ‘এরিকসন’ থেকে অবসর নিয়ে কমিউনিটির হাজার হাজার Multiethenic মানুষের অগাধ বিশ্বাস, দান করা অর্থ, স্বেচ্ছাশ্রম আর সকলের সমবেত চেস্টায় (প্রায় সত্তর লাখ ডলারে) 3020 Woodroffe Ave এ SNMC Centre & Masjid এর নিজস্ব স্থাপনা আজ সমাপ্তির পথে। এটা মুসলমানদের আধ্যাত্নিকতা, বিশ্বাসের ঐশী স্রষ্টা, সাথে সম্পর্কিত জীবন, আত্মার পবিত্রতা, মৃত্যু, বিয়ে, সামাজিক অধিকার ও দায়িত্ব, নৈতিকতা, অনুপ্রেরনার বাতিঘর। অটোয়ার বারহেভেন এলাকায় একটি ব্যস্ত প্রধান সড়কের পাশে বিশাল খুব সুন্দর এলাকার সাথে একদম Blended কিন্তু Oriental স্থাপনা, ছেলে এবং মেয়েদের প্রবেশ পথ পাশাপাশি।

আর আমাদের ঈমাম বসনিয়ান কানাডিয়ান, Phd in Education। যিনি প্রজ্ঞা এবং দক্ষতার সাথে তরুন প্রজন্মকে Identity সম্পর্কে সচেতন করছেন।
কর্মক্ষেত্র থেকে অবসর নেবার পর আমার স্বামী শুরু করেন ফেলে আসা নিজ জন্মভুমি বাংলাদেশের জন্য আর এক Registerd charity, ‘Canada Bangladesh Education Trust’। কানাডা থেকে Donation এর অর্থ সংগ্রহ করে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম্য অঞ্চলে প্রতিটি কলেজ পড়ুয়া পাঁচটি করে মেধাবী দুস্থ ছাত্র ছাত্রিদের দশ হাজার টাকা বৃত্তি দেয়া উদ্দেশ্য। এবছর মোট আশিটি বৃত্তি দেয়া হয়েছে  ষোলটি কলেজে। আগামী বছরে ২০০ টা বৃত্তি দেবার লক্ষ্যমাত্রা। যে কোন কানাডিয়ান ১৫০ ডলার দিয়ে একটি বঙ্গ সন্তানকে উচ্চশিক্ষার দরজায় পৌছে দিতে পারেন। একমাত্র উচ্চশিক্ষাই দিতে পারে গোড়ামী মুক্ত, সমৃদ্ধ, শিক্ষিত বাংলাদেশের।
মনের মাঝে ফুল ফল সমেত এক মায়াময় স্মৃতি গাছ নিয়ে পুবের মানুষ যখন পশ্চিমে এসে বসত গাড়ে, নুতন প্রেক্ষাপটে কঠিন পরিশ্রমে নিজেকে পুনর্নির্মান করে, প্রতিদিনের যাপিত জীবনে কঠোর বাস্তবতায় তাদের অন্তরে কিছু স্মৃতি চিহ্ন আর কিছু স্বপ্ন চুর্ন মিশিয়ে প্রতিটি ইমিগ্রান্টের জীবন ভাবনা আর স্বদেশ চেতনা গড়ে ওঠে। নুতন বাসভুমির প্রতিদিনের আগ্রাসি বাস্তবতায়ও আত্মার গহীনে এক অদৃশ্য শিকড়  মায়াময় জন্মভুমির পলিমাটি ছুঁয়ে থাকে অলক্ষ্যে। থাকে কিছু দায়-দায়িত্ব। মানুষের আচরনই তার পরিচয়। খ্রীস্টান, ইহুদী, শিখ, হিন্দু, বৌদ্ধ, বা অন্য ধর্মের মত মুসলমানদের পরিচয় কানাডিয়ান মুসলমান। পাঁচমিশেলি সমাজে নিজেদের অধিকার ও কর্তব্য জেনে পাড়া প্রতিবেশির সাথে মিলে মিশে মুসলমানদের আচরন অবশ্যই কানাডিয়ান আইনানুগ হতে হবে, এটাই তাদের image feedback.

About admin

Check Also

give1-300x76

ইমিগ্রান্ট কড়চা (CBET), আসমা খান Immigrant Diary (CBET), Asma Khan

ইমিগ্রান্ট কড়চা (CBET), আসমা খান Immigrant Diary (CBET), Asma Khan স্কুলে আমাদের পন্ডিত স্যার বাংলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *