Home / Articles / Transformation Asma Khan; রূপান্তর, আসমা খান

Transformation Asma Khan; রূপান্তর, আসমা খান

Transformation Asma Khan; রূপান্তর, আসমা খান

কানাডায় আসার পর ইমিগ্রান্টদের প্রথম ধাক্কাটা আসে অর্থনৈতিক দিক থেকে। অপরিচয়ের দেশে হুরমুরিয়ে সঙ্গের ডলার শেষ হয়ে যায়। আর্থিক সঙ্কট সঙ্গী হয়ে যায় প্রথম থেকেই। তবে কানাডার সামাজিক কাঠামোটা এমন যে দেশের মত আর্থিক সঙ্কট গায়ের সাথে বিঁধে থাকেনা। ওয়েলফেয়ার স্টেট। শিক্ষা, চিকিৎসা সুলভ বাস স্থান সহানুভুতিশীল পাচ মিশেলি সমাজ। মেধাবী হলেতো কথাই নেই, উদ্যমী, কর্মঠ হলেও কয়েক বছরেই মানুষ সমাজে সন্মানের সাথেই চলতে ফিরতে পারে। ঋণের বোঝা অবশ্যই সঙ্গে থাকে, লেখাপড়া, বাড়ি, গাড়ি, ক্রেডিট কার্ডের ঋণ অষ্টে পৃষ্টেই জড়িয়ে থাকে, কিন্তু  এদেশে ফ্রেমওয়ার্কটা এমন যে দায়িত্ব ও দক্ষতার সাথে সেটা আয়ত্বে রাখা যায়। দেশের মত মহাজনের চোখ রাঙ্গানী বা ধমক ধামক আর অপমানটুকু ধাওয়া করে না পিছে পিছে।
ইমিগ্রান্ট জীবনের গেরস্থালীতে নির্মম সৌন্দর্য্য হচ্ছে পরস্পরের প্রতি অপত্য স্নেহ মায়া মমতা আর আপোষহীন অভিভাবকত্ব। বহুতল ভবনের তাদের ছোট্টো ঐ ফ্লাটবাড়ির বদ্ধ দরজার মধ্যও পুবের রক্ষনশীল সমাজ অনায়াসে ঢুকে যায়, ‘ভাল’ সন্তানের সাথে ‘কান্ড কীর্তির’ রসালো বাক্যবান পারিবারীক অনুভুতিতে সুই হয়ে ঢোকে, মর্যদাকে খান খান করে ফাল হয়ে বের করে দিতে পারে গুচ্ছের কূচ্ছো গেয়ে  প্রতিবেশি আন্টিরা। বাতাশের মত অদৃশ্য ঐ সমাজের ভয়ে পরিবারের অভিভাবকগন সন্তানের সামাজিক আচরন কঠিন হাতে নিয়ন্ত্রন করতে চান, আর সন্তানেরাও ঘরে বাইরের সামাজিক আচরনের পার্থক্য দিশেহারা হয়ে নিজেদের বোধ শোধ আচরন অজান্তেই বন্ধকি দিয়ে দেয় পুবের জীবন্ ধারার  কাছে। যার অনেক খানি জুরে ‘হালাল’,(খাবার, যা এখন অটোয়াতে খুবই সহজলভ্য), মেয়েদের ‘হিজাব’ (পোষাক,গত কয়েক সপ্তাহে প্রচন্ড শীতে সর্ব সাধারন নেকাবের মত কাপড়ে আবৃত করে আত্বরক্ষা করছে)  আর সংকীর্ন ধর্মীয় কিছু রিচুয়ালের ভিত্তিতে অন্যদের সাথে ফরজ নিয়ে নয়, নফল বা সুন্নত নিয়ে বিতর্কে নামেন।
স্কুলের প্যারেন্ট টিচার মিটিঙ্গে গিয়ে বাবা মায়ের খুব ভালো লাগে। ক্লাস টিচার যখন বলেন ‘মোহামেদ খুব ভালো ছেলে, সে ক্লাসে এসে তার নিজের স্নোসুট,বুট নিজে নিজেই খুলে চমৎকার করে গুছিয়ে রাখে, শুধু তাই না, বুট সেলফে অন্য কারো বুট এলোমেলো থাকলে সেগুলো ও সুন্দর করে গুছিয়ে রাখে। অন্যদের সাথে খেলনা শেয়ার করে ,টিচারের কথা খুব মেনে চলে’। অথচ ঘরে ঢুকেই পাঁচ বছরের সেই মোহামেদ ধপাস করে বসে চিৎকার করবে তার স্নোসুট খুলে দেবার জন্য। বোনের সাথে খেলনা নিয়ে বেঁধে যাবে ধুদ্ধুমার। বাবা মা স্কুলের রেজাল্ট আর দেশি বন্ধু বান্ধবে মেলামেশার সীমা টেনে দিয়ে অভিভাবকত্ব বজায় রাখেন। বাসা থেকে অন্য দেশেরটা ডিঙ্গিয়ে দূরে হোলেও নিজ দেশি মসজিদে ছেলেকে নিয়ে বাবা নামাজ পড়তে যান। মহানবীর (দঃ) এর  আরব সাহাবাদের সাথে বেদুঈন, হাবসি, ফারসি,তুর্কি সকল স্তরের মানুষের সাথে যে অবাধ মেলেমেশা ছিল সেটা খুব একটা আলোচনা করেন না। মেয়েদেরও খুব একটা উৎসাহিত করেন না মসজিদে যেতে, কারন দেশে মেয়েরা মসজিদে যায়না। ব্যাপার না, মেয়েরা সব ধর্মে, সব দেশেই প্রান্তিক চরিত্র।
নুতন দেশে ইমিগ্রান্টদের ঠিকানা, কর্মস্থল, বদলে যায়, বদলে যায় জীবনবোধের। মন মানষে একটা রূপান্তরের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ভাষা, পোষাক, আবহাওয়া, ভিনদেশিদের সাথে মিলে মিশে চলা। মোহাজের হয়ে যখন মহানবী (দঃ) মদিনাতে হিজরত করেছিলেন তখন এক ভাতৃত্ববোধের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন আনসাদের সাথে। আশ্রয়দাতার সাথে আশ্রয়গ্রহিতার মধ্য ছিল পরস্পরের প্রতি স-সন্মান শ্রদ্ধা ও মমত্ববোধ। সময়ের সাথে সাথে অন্তরঙ্গ বোঝাপড়ায় সেটা এক আত্বিক বাঁধনে যে সমাজ কাঠামো তিনি গড়েছিলেন তাঁর জমিনে ছিল পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, ক্ষমা, ধৈর্য্য, প্রজ্ঞার মানবিক বীজ বোনা। সাক্ষাতের শুরুতেই ছিল শান্তির বানী। অন্য ধর্মের সাথেও মৈত্রীর সম্পর্কই গড়েছেন। একবিংশ শতাব্দিতে এসে দাঙ্গা, যুদ্ধ, স্বৈরাচার, দুর্ভিক্ষের শিকার এশিয়া আফ্রিকার লাখ লাখ ইমিগ্রান্ট সেই মদিনার সমাজ ব্যাবস্থার মত কানাডার ইনক্লুসিভ সামাজিক কাঠামোতে বসত করছেন। ঈদ, জন্মদিন, বিয়ে/মৃত্যু বার্ষিকী, মিলাদ, গায়ে হলুদ, বিয়ের মত সামাজিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করে সামাজিকতা করছেন। তীব্র শীতেও জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে কিছুই আঁটকে থাকে না। বছরের শুরুতে অটোয়ার বিখ্যাত অধ্যাপক,স্বনামধন্য লেখক পরলোক গমন করেছেন। হটাৎ করেই বিয়েও হোল একটা। পরিচিত আংকেল পাগড়ি মাথায় চাচাত ছোট আপুর পাশে বসে থাকতে দেখে  খানিকটা বিভ্রান্ত ছয় বছরের ছেলে তার মাকে জিজ্ঞেস করে ‘ব্যাপারটা কি?’ মা ঘটকালী করেছেন,  তিনিই ছেলেকে বলেন ‘ওদের বিয়ে!’ আরো অবাক হয়ে ছেলে জিজ্ঞেস করে ‘কেমন করে?’, মা বলেন ‘আমি ছেলেটাকে দেখে তোমার আপুর জন্য পছন্দ করেছি’। ক্ষুব্ধ, আহত বিস্ময়ে ছেলে মাকে বলে ‘আপু তার লাইফ পার্টনার চুজ করবে, তুমি কেন করেছো’? মা তার ইঁচড়ে পাকা ছেলের দিকে অবিশ্বাসী চোখে তাকিয়ে স্তব্ধ দিশেহারা হয়ে যান!

Picture 9: Bangladeshi Wedding: Gaye Halud, source Internet,
http://www.newasianbeauty.com/images/179-Bangladeshi-Bridal-Dress-5.jpg
তুমুল তুষারপাত, মাইনাস ৩৫ ডিগ্রির হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারে (হকি এরেনা সহ) গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। বিয়ের কনে এক ঝাক বর্ণিল প্রজাপতির মত স-বান্ধবী ঢুকছে উজ্জল হলুদ সিল্কের শারি সোনালী জুতো ফুলের গয়না পড়ে। সঙ্গে আছ ফুলের সাঁজি, সাজানো কুলো, ডালা, ভর্তি পিঠে, গজা, মিস্টি, মন্ডা। বাতাস মোঁ মোঁ করছে বিরিয়ানীর সুগন্ধে! হলের প্রবেশ মুখে কিন্নর কন্ঠে হলুদের গান গেয়ে কনে বরনের জন্য অপেক্ষায় আছে অতিথীবৃন্দ। হকি খেলা শেষে তাদের ইকুইপমেন্টসহ ঢাউস ব্যাগ সহ বাইরে যাবার পথে মুষকো যোয়ান কানাডিয়ান খেলোয়াররা কনে যাত্রিদেরকে দেখে স-সন্মানে পথ ছেড়ে দিল। ঠক ঠক কর কাঁপতে কাঁপতে কনের বান্ধবী মন্তব্য করলো, ‘Silk and snow don’t go together…’
পাঁচ মিশেলি অতিথীদের একজন ফেসবুকে মন্তব্য লিখলো, ‘ Love our country – may we all grow closer and move beyond tolerance to acceptance and understanding.

About admin

Check Also

give1-300x76

ইমিগ্রান্ট কড়চা (CBET), আসমা খান Immigrant Diary (CBET), Asma Khan

ইমিগ্রান্ট কড়চা (CBET), আসমা খান Immigrant Diary (CBET), Asma Khan স্কুলে আমাদের পন্ডিত স্যার বাংলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *