Home / Articles / Immigrant Diary (Sweets) , Asma Khan, ইমিগ্রান্ট কড়চা(মিস্টির কথা)

Immigrant Diary (Sweets) , Asma Khan, ইমিগ্রান্ট কড়চা(মিস্টির কথা)

  Immigrant Diary (Sweets) ,  Asma Khan, ইমিগ্রান্ট কড়চা(মিস্টির কথা)

খাবারের কালচার একান্তই এলাকা এবং পরিবার নির্ভর। নাম ধাম নির্মান পদ্ধতি পারিবারীক ও স্থানীয় ঐতিহ্যকে ধারন করেই তা বিকশিত হয়। দেশে গ্রামের আন্ডাভাজি শহরে ডিম ওমলেট, আর বিদেশে তার রেসিপিতে চিজ কচি পালং পিয়াজ টমেটো আরো কত কি যে যোগ হয়! স্বামী ছেলে মেয়েসহ যখন এদেশে আমরা আসি সঙ্গে কতিপয় জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী, গুরুজনের মৃত্যু বার্ষিকীর সামাজিকতা চলে আসে। রোজার ইফতার, ঈদ, কোরবানী…  তো এসব অনুষ্ঠান ঘরে ঘরে নেহায়েতই চেনাজানাদের নিয়েই দেশী লৌকিকতাটুকু করা হয়, খানা দানার পর মিস্টি মুখেই গল্পগাছা জমে ভালো।

মন কেন যে পড়ে থাকে সেই ছেলেবেলায়!! সেসময় শীতকাল মানেই ঘরে ঘরে পিঠেসকাল! সারা বছরই পিঠে খাওয়া হলেও নুতন চালের গুড়ি, খেজুরের রস, গুড়, নারকেল দিয়ে বানানো ভাঁপা পিঠা, দুধ চিতই, কুলি, ক্ষীরের পূর দেয়া পাটিসাপটার আবেদন এখনো অম্লান। মুগ পাক্কন, ফুল পিঠে তো এক একটি অনন্য শিল্পকর্ম। তাই অনেকেই অসীম যত্নে চিতই পিঠের মাটির খোলা দেশ থেকেই নিয়ে আসেন, সঙ্গে খেজুরের গুড়, নারকেলের হাত কুড়ুনি, ভাঁপা পিঠের ঝাজরি, ঢাকনা, চালু্নি। কানাডিয়ান দোকান ‘Bulk burn’ এ চালের গুড়ির অভাব নেই। চাইনিজ দোকানে ফ্রোজেন কোড়ানো নারকেল পাওয়া যায়, ড্রাই কোরানো নারকেল পাওয়া যায় যত্র তত্র সর্বত্র যা পানিতে ভিজিয়ে খেজুরের গুড় না থাকলেও সহজলভ্য Brown Sugar দিয়েই দিব্যি আমরা ভাঁপা পিঠে বানিয়ে নিজে খাই, অতীথি আপ্যায়ন করি।

 


Picture -8 A: Typical Bangla Pitha
Source, https://encrypted-tbn3.gstatic.com/images?q=tbn:ANd9GcR4-qwSSrXtwAQ7P_BXvCm_n2yQ1eTpolx2Per38jMAz7G-4mhD

চিতই পিঠের  চালের গুড়ির গোলায় এক চা চামচ Instant Yeast দিয়ে গুলিয়ে ঘন্টা খানেক রেখে তারপর পিঠে বানিয়ে দুধে ভিজালে একদম নরম রস টসটস দুধ চিতুই পিঠে তৈরি। আর হাতের পাচ বেকারীর প্যাকেটের ক্রাম্পেট ভালো করে টোস্ট করে দুধে গুড়ে নারকেল কোড়ায় ভিজিয়ে শীতের পিঠে তো আছেই, ব্যাস্ত জীবনে দুধের স্বাধ ঘোলে মিটানো আর কি!
পিঠেয় কিছু নয়ছয় হলেও আমাদের সেমাই, ফি্রনি, পায়েশ, জর্দা, হালুয়ায় কোনো ফাঁকি নেই কিন্তু। এক্কেবারে খাঁটি গাওয়া ঘি (Butter জ্বাল দিয়ে ঘরে বানানো), এক্কেবারে খাঁটি দুধ, দেদারসে কিসমিস, পেস্তা, বাদাম, জাফরান দেয়া স্বাদে ঘ্রানে দর্শনে এক্কেবারে পারফেক্ট! দুধলাউ, সেমাই বা চাউলের বাহারি জর্দা, রকমারি হালুয়ার কৌনিক বরফি কাটে থরে থরে সাজিয়ে বাহারি প্রদর্শনির উৎসবের টেবিল দেখে কে বলবে এ রাঁধুনিরা দেশে কুটোটি ভেঙ্গে দুটোটি করেনি, নুতন দেশে এসে রাঁধতে রাঁধতেই ক্রমশঃ পাক্কা রাঁধুনি!!

বিয়ের পরে যখন দেশ ছাড়ি সেই সত্তুরের দশকের শেষে, তখন দেশে দাওয়াতে সাধারনতঃ অভ্যাগতরা মাটির মালসায় ঘোষ ডেইরির দই নিয়েই উপস্থিত হতেন। সঙ্গে কলাপাতায় মোড়ানো সন্দেশ, মৌসুমে নৈলেন গুড়ের সন্দেশ। কেউ আবার মাটির হাড়িতে করে রসোগোল্লাও আনতেন। আর প্রায় প্রতিটি ব্যাস্ত রাস্তায়ই মিস্টির দোকানের শোকেসে সাজানো থাকতো রসোগোল্লা, চমচম, কালোজাম, সন্দেস, বুন্দিয়া আর সামনের চুলোতে প্রতিদিন বিশাল লোহার কড়াইএ ভাজা হতো জিলাপি, গরম তেলে কারিগরের দক্ষ হাতের ‘প্যাচ’, সোনালী জিলাপি ভেজে চিনির সিরায় ভিজিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা জিলাপি আমাদের স্মৃতিতে এখনো উজ্জ্বল।
তো আটাত্তর সালে যখন দেশ ছেড়ে আসি, তখন ইন্টারনেট ছিলনা, মাউস ক্লিকেই ছবি সহ

উপকরন পরিমান রন্ধন পদ্ধতি ধাপে ধাপে জলবৎ তরলং করে মনিটরে দেখিয়ে দিচ্ছিলনা, বরঞ্চ পরবাসে ঠেকে ঠেকে শেখা পাঁকা রাধুনিরা নবাগত আনাড়িদের কাছে রেসিপি দেবার সময় কিছু ছোটখাট জরুরি টিপস ভুলে যেতেই পারেন। তবে নবাগতদেরও দই, পায়েস বানাতে গিয়ে বার বার ঘোল খেতে হয়নি। মোটামুটি সহজেই শিখে গেছেন। দুটো এভাপোরেটড মিল্ক, দুই কাপ ৩% দই, এক কাপ Can এর আম একসাথে মিশিয়ে ওভেনে ৩৫০ ডিগ্রিতে আধাঘন্টা বেক করে খেয়ে বলেনতো কেমন হোল ‘আমদই’?

রসোগোল্লা!!! ‘৭৮ সালে জীবনের প্রথম রসোগোল্লা বানিয়ে গভীর মনোযোগে পড়াশোনায় ব্যাস্ত ( PH,D স্টুডেন্ট তখন) স্বামীকে চাখতে দিয়েছিলাম। তো তিনি চাখতে গিয়ে বই বন্দ করে আমাকে হটাৎ করে তাঁর ছেলেবেলার কেচ্ছা শোনাতে বসলেন! গুলতির গল্প। ইংরেজি ‘Y’ এর মত গাছের ডাল কেটে উপরের দুই বাহুতে রাবারের চওড়া  ব্যান্ডে ইটপাথরের টুকরো দিয়ে তীরের মত লক্ষ্যর বিপরীতে টেনে নিয়ে মুক্ত করলেই পাথরের টুকরাটি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে গিয়ে সেটা সজোরে আঘাত করে। মগডালের আম আমড়া পাড়ার জন্য তিনি ছেলেবেলায় কেমন করে দূরের পুকুর পাড়ের আঠালো কাদা এনে সেগুলি দিয়ে ছোট ছোট গুলি বানাতেন, তারপর সেগুলি রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে শক্ত পোক্ত করা হতো…  ব্যাস!! তাঁর গল্পের শানে নযুল বুঝে গেলাম!


Picture- 8B Typical Bangladeshi Sweets
Source, https://encrypted-tbn3.gstatic.com/images?q=tbn:ANd9GcQXIgMByRWD37l6YMDnBbgNU8wSDVu9wJrT1XtKuTDHmmBCWyny

ইচ্ছে থাকলে উপায় একটা হয়ই, এই শেখার উদগ্র ইচ্ছেটুকু সঙ্গী করে নবাগত গিন্নীরা ক্রমাগত চেস্টায় শিখে যায় হরেক রকমের মিস্টি বানানো, রসোগোল্লা, রসমালাই, চমচম, সন্দেস, কালোজাম, প্রানহারা আরো কত রকমের মিস্টি!!!  স্বাদে গন্ধে, দেখতে দেশের দোকানের মিস্টির থেকেও ঢের ভালো। পশ্চিমে এসে পুবের গিন্নীরা মিস্টি্র কালচারে অসাধারন দক্ষতায় যে পদচিহ্ন এঁকেছেন তা স্মরনযোগ্য। যদিও বয়সকালে অনেকেই ‘মিস্টি রোগে’,(ডায়াবেটিসে) আক্রান্ত।  দ্বিতীয় প্রযন্মের Taste bud একটু তফাৎ তো হবেই, মায়ের বাড়ীতে দেশী মিস্টি খেলেও নিজেরা কচিৎ বানিয়ে খায় বা খাওয়ায়। হুল্লোর করে সমবয়সীরা বরং চকলেট, আইস্ক্রিম, কেক বা এদেশী মিস্টি খেতেই তাদের আগ্রহটা বেশি।

————————————————————————–
Asma Khan, CBET since 2012,  and an  SNMC Dreamer & advisor since 1999. She hods a BA Honors in  Literature & Linguistics from Rasjshahi  University and Data processing  Certification from Bahrain University. She is the author of  Probasher Hasi Kanna (Happiness and Sorrow in immigrant life) published in Bangladesh. She is an avid Poet and writer since  her College life   and became a regular writer in blog since 2009.

About admin

Check Also

give1-300x76

ইমিগ্রান্ট কড়চা (CBET), আসমা খান Immigrant Diary (CBET), Asma Khan

ইমিগ্রান্ট কড়চা (CBET), আসমা খান Immigrant Diary (CBET), Asma Khan স্কুলে আমাদের পন্ডিত স্যার বাংলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *